Prothom Alo

ফুটপাতে একটু কান পাতলেই অনেক সময় শোনা যায় ‘হাতঘড়ি ৫০ টাকা; এক দাম ৫০ টাকা’। আবার ‘মোবাইল চার্জার ৫০ টাকা; এক দর ৫০ টাকা’। এভাবে ফুটপাতে হরেক রকম বাহারি বিদেশি পণ্যের সমাহার সাজিয়ে হাঁকডাক দেন অনেক বিক্রেতা। এসব পণ্য বিশেষ করে চীন থেকে সস্তায় আমদানি করা হয়। আবার এক শ্রেণির ব্যবসায়ী আমদানি পর্যায়ে মূল্য কম দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেন।
এবারের বাজেটে অর্থমন্ত্রী সেখানে নজর দিয়েছেন। কম মূল্য দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়া বন্ধ করতে ১৯২ ধরনের পণ্যের ন্যূনতম শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করেছেন তিনি। এসব পণ্য শুল্কায়ন করার সময় শুল্ক বিভাগের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কম দেখানো যাবে না। ফলে এখন থেকে এত সস্তায় পণ্য বিক্রি করা কঠিন হবে।
এসব পণ্যের তালিকায় রয়েছে স্কুলব্যাগ, হাতঘড়ি, সাবান, পারফিউম (সুগন্ধি), প্রসাধনসামগ্রী, শ্যাম্পু, চকলেট, বিস্কুট, পটেটো চিপস, জ্যাম-জেলি, টমেটো কেচআপ, এনার্জি ড্রিংক, মোবাইল চার্জার, রাইস কুকার, কফি মেকার, পাদুকা, ইমিটেশন গয়না, ভ্যানিটি ব্যাগ, রেজর, আফটার শেভ, মশা মারার কয়েল, পাঞ্জাবি, শেরওয়ানি, প্যান্ট-শার্ট, টি-শার্ট, কম্বল, স্যানিটারি ওয়্যার (কমোড), বস্ত্র, তাস ইত্যাদি।
যেহেতু এসব পণ্যের ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, তাই আমদানিকারক যদি কম দামেও পণ্য আমদানি করেন, তবু শুল্ক বিভাগের নির্ধারিত মূল্যের ওপর শুল্কায়ন করা হবে। এর ফলে কম মূল্য দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হবে। সেই সঙ্গে একেক বন্দর দিয়ে একেক রকম মূল্য দেখানোও বন্ধ হবে। একই ধরনের পণ্যের খুচরা পর্যায়ে দামের পার্থক্য কমবে বলে মনে করছেন শুল্ক কর্মকর্তারা।
কীভাবে এসব পণ্যের ওপর প্রভাব পড়বে, এর উদাহরণ হলো চীন, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, ভারতসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে তৈরি হাতঘড়ির শুল্কায়নযোগ্য ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে দেড় ডলার বা ১২০ টাকা। এর ওপর ১০ শতাংশ আমদানি শুল্ক, ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (মূসক), ৫ শতাংশ অগ্রিম কর, ৪ শতাংশ অগ্রিম ব্যবসায় কর (এটিভি) দিতে হবে। এতে মোট শুল্ক করের পরিমাণ দাঁড়াবে ৪৫ টাকা। সব মিলিয়ে একজন ব্যবসায়ীর একটি হাতঘড়ি আমদানিতে দাম পড়বে ১৬৫ টাকা। ভোক্তা পর্যায়ে এ ঘড়ি ২০০ টাকার কমে বিক্রি করা কঠিন হবে।
আরেকটি উদাহরণ দেওয়া যাক ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ভ্যানিটি ব্যাগের ন্যূনতম মূল্য ধরা হয়েছে ৫ ডলার বা ৪০০ টাকা। আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূসক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, অগ্রিম কর, অগ্রিম ব্যবসায় কর মিলিয়ে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ খালাস করতে খরচ হবে প্রায় ৩৭৫ টাকা। শুল্কায়নযোগ্য মূল্য এবং শুল্ক কর দেওয়ার পরে আমদানিকারকের মোট খরচ হবে ৭৭৫ টাকা।
শুল্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে এক শ্রেণির আমদানিকারক বিভিন্ন পণ্য এনে কম দাম দেখিয়ে শুল্কায়ন করেন। আবার অনেকে কম দামি নিম্নমানের পণ্য আমদানি করেন। এতে বাজারে একই পণ্যের দামের বিরাট ফারাক দেখা যায়। এতে অনেক সময় ভোক্তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন। পণ্য কিনে তাঁরা ঠকেন।
কম মূল্য দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা ঠেকানোসহ বিভিন্ন ধরনের জটিলতা এড়াতে চট্টগ্রাম কাস্টমস বিভাগ থেকে চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের শুরুতে আমদানি পণ্যের ন্যূনতম শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন শুল্ক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি ৪২টি পণ্যের ওপর শুল্কায়নযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করে। পরে এ নিয়ে রিট হলে তখন উচ্চ আদালত মূল্য নির্ধারণের বিষয়টি স্থগিত করে দেন।

Share Button